এবারও বন্ধ সাং??কৃষ্ণনগর জগদ্ধাত্রী ডায়েরি

 জগদ্ধাত্রী পুজার কথা মাথায় আসতেই জগদ্ধাত্রী ভূমি কৃষ্ণনগর এর কথা মাথায় আসে,প্রায় ২৫০ এর বেশি জগদ্ধাত্রী পূজা হয় এই শহরে যার মধ্যে প্রায় ২০০ টি লাইসেন্স প্রাপ্ত পূজা,



কৃষ্ণনগর এর জগদ্ধাত্রী পুজার প্রধান আকর্ষণ হলো দশমীর দিন সকাল বেলায় মায়ের মঙ্গলঘট শোভাযাত্রা সহকারে বিসর্জন এবং ঠিক রাত্রে বেলায় জগদ্ধাত্রী মায়ের নিরঞ্জন শোভাযাত্রা ।

হ্যাঁ সে এক অভূতপূর্ব নিরঞ্জন শোভাযাত্রা ।যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না । গোটা বিশ্বে যা একমাত্র কৃষ্ণনগর এই সম্ভব । 

শতাধিক বেহারার কাধে চড়ে মা জগদ্ধাত্রী চলেছেন নিরঞ্জন পথে, নিরঞ্জন পথনির্দেশনা হলো এই যে , যে যার বারোয়ারী বা ক্লাব থেকে প্রতিমা কে বের করে রাজবারির দিকে রওয়ানা দেয় তারপর রাজবাড়ী প্রদক্ষিণ করে রাজপথ ধরে মাকে নিয়ে যাওয়া হয় কদমতলা ঘাটে



এই রাজবাড়ী প্রদক্ষিণ করে নিয়েও রয়েছে ঐতিহ্যময় ইতিহাস, কথিত আছে  প্রাক্কালে তৎকালীন রাজপরিবার ও স্বয়ং রাণীমা প্রতিটি পাড়ার জগদ্ধাত্রী প্রতিমা দেখতে চাইতেন এবং তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দের কাঁসার ঘরা উপহার দিতেন । 

সেই ঐতিহ্য কে সাথে করে নিয়ে আজও ক্লাব বারোয়ারী গুলি তাদের প্রতিমা কে নিয়ে প্রথমে রাজবাড়ী প্রদক্ষিণ করে তারপর কদমতলা ঘাটে নিয়ে যায় ।

কৃষ্ণনগর এর প্রায় ৪৪ টি এমন ক্লাব বারোয়ারী আছে যাদের সরকারি প্রশাসনিক লাইসেন্স আছে তাদের প্রতিমা কে নিয়ে সাং প্রথা মেনে অর্থাৎ বেহারা দের কাধে করে নিরঞ্জন এর উদ্দেশ্যে যাওয়ার।

কিন্তু এই অনন্য ঐতিহ্যের পথে হটাৎ ই কাঁটা হয়ে দাড়ালো কোভিড ১৯ ।

বিগত ২০২০ সালে কোভিড ১৯ এর সরকারি গাইডলাইনস অনুযায়ী লোকজমায়েত থেকে বিরত রাখতে সরকারি ভেবে বন্ধ রাখা হয় সাং প্রথা ও রাজ বাড়ি প্রদক্ষিণ যার ফলাফল স্বরূপ শহরের এক প্রান্ত অর্থাৎ রাজবাড়ী পরে থাকে খালি আর এক প্রান্ত হাইস্ট্রিট থেকে কদমতলা ঘাট পর্যন্ত উপছ পরে জনসমাগম । যা করার চেষ্টা সরকার করেছিলেন তার উল্টোটা হয়ে যায় কারণ রাজবাড়ী যাওয়ার অনুমতি না থাকায় সব পুজাকমিটি তাদের প্রতিমা নিয়ে সোজা কদমতলা ঘাটে চলে যান , যা দেখার জন্য গোটা শহরের মানুষ এক জায়গায় হয় যায়।। অর্থাৎ covid আটকানোর যে প্রচেষ্টা সরকার করেছিল তা কোনো ভাবে যেনো ব্যর্থ হয়েছে।।।।।



সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে একজোট কৃষ্ণ নাগরিক তরুণ। তারা শহরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টাঙাই , আওয়াজ ওঠে - " বন্ধ হলে সাং,বয়কট হবে ভোটদান"  তবে দুঃখের বিষয় কোনো বড় পূজা কমিটিই ঠিকঠাক করে এগিয়ে আসেননি । 

হয়তো বা সবাই মিলে চেষ্টা করলে জগদ্ধাত্রী মা বেহারার কাধে চরেই যেতেন । কারণ ২০২০ সালেই জগদ্ধাত্রী পুজার ঠিক আগে কার্যত covid কে বুড়ো আঙ্গুল দেখতে কৃষ্ণনগর এর রাজপথ এই একের পর এক জনসভা,মিটিং ,মিছিল হয়েছে ।

একাধিক এর মনে প্রশ্ন উঠেছে তবে কি covid গাইডলাইনস শুধুমাত্র পুজোর জন্যই??রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এর কোনো মান্যতা নেই??

সম্প্রতি ২০২১ সালেও কালীপূজার প্রশাসনিক মিটিং এ বন্ধ রাখা হলো সাং প্রথা ও রাজবাড়ী প্রদক্ষিণ । পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হয়তো বা এমন ই চলবে।।।

কৃষ্ণনগর বাসীরা কি পারেন না একত্রিত হতে ?? মনবিদ্বেষ ভুলে এক সঙ্গে গর্জে ওঠো কৃষ্ণনগর । 

আশা রাখি সামনের বছর গুলিতে কৃষ্ণনগর কে তার পুরনো ছন্দে দেখতে পাওয়া যাবে, একবার সবাই মিলে গর্জে ওঠো কৃষ্ণনগর বাসী

#হোক_সাং

হোক ডিজিটাল প্রতিবাদ 

ভুলে যেওনা একতাই বল!!

নিচের ভিডিও টিকে শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন















মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন