জগদ্ধাত্রী পুজার কথা মাথায় এলেই কৃষ্ণনগর আর চন্দননগর এর কথা সাথে সাথেই মাথায় এসে যায়। জগদ্ধাত্রী পুজার প্রচলন প্রথম কোথায় সে প্রশ্ন বহু বিতর্কিত..! কিন্তু ইতিহাসে পাতা ওল্টালেই পাওয়া যাবে মা জগদ্ধাত্রী এর আরাধনা শুরু হয় কৃষ্ণনগর এই ।
কৃষ্ণনগর এর তৎকালীন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় নবাবের কাছ থেকে কিছু টাকা ঋণ নেন কিন্তু পরিশোধ করতে পারেন না, সেই কারণে রাজন কে বন্দী বানানো হয় মুর্শিদাবাদে । কিছু কাল বাদে যখন রাজন তার বন্দী দশা থেকে মুক্তিলাভ করেন তখন তিনি নৌকা বিহারে রাজবাড়ী প্রত্যাবর্তন করেন,প্রত্যাবর্তন কালে তিনি দেখেন নদিতটে মা দুর্গার নিরঞ্জন হচ্ছে, ঢাকের বাদ্য সুর তার কানে পৌঁছতেই তার মন বিচলিত ও খারাপ হয় কারণ প্রতি বছরের ন্যায় তিনি এ বছর তার রাজবাড়ীর নাটমন্দির এ মা দুর্গার পুজার আয়োজন করতে পারেননি, এই মন খারাপ নিয়ে রাজা নৌকার উপর ঘুমিয়ে পড়েন।
ঘুমের মধ্যে হটাৎ তার স্বপ্নে সুসজ্জিতা এক দেবী প্রতিমা কোমল স্বরে কৃষ্ণচন্দ্র কে ডেকে বলেন মন খারাপ না করতে আগামী শুক্লপক্ষের নবমী তিথি তে এই রূপের পূজা করতে।
হটাৎ এই স্বপ্নাদেশ পেয়ে রাজা রাজবাড়ী ফিরে রাজপুরোহিত এর সাথে আলোচনা করে এবং স্বপ্নে দেখা দেবীর রূপ বর্ণনা করে বলেন দেবী অশ্বসিংহ বাহনে বসে আছেন এবং তার চার হাতে শঙ্খ , চক্র , তীর ও ধনুক আছে ।
রাজপুরোহিত মহারাজ কে আশ্বস্ত করে বলেন পূরান মতে দেবীর এই রূপ মা দুর্গার ই আর এক রূপ মা জগদ্ধাত্রী ।
সেই থেকে অর্থাৎ ১৭৫৪ সালে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ী তে শুরু হলো রাজ রাজেশ্বরী দেবী জগদ্ধাত্রী এর আরাধনা ।
রাজার দেওয়ান ইন্দ্রণারায়ন এই পূজা দেখে মুগ্ধ হন ও মা জগদ্ধাত্রী এর প্রতি ভক্তি ভাব জেগে ওঠে, পরবর্তী বছরে অর্থাৎ ১৭৫৫ সালে দেওয়ান ইন্দ্রণারায়ান চন্দননগর এ নিজের বাসভবন এর শুরু করেন মা জগদ্ধাত্রী আরাধনা ।
চন্দননগর ও কৃষ্ণনগর এর পুজোর মূল পার্থক্য হলো চন্দননগর এ পূজো চারদিন ব্যাপী হলেও কৃষ্ণনগর e কিন্তু রাজার স্বপ্নে পাওয়া আদেশ মেনে এখনো পূজো নবমী তিথি তেই হয় এবং ওই নবমী তিথি তেই মায়ের ষষ্ঠী পূজা থেকে শুরু করে সপ্তমী,অষ্টমী,নবমী পূজা করা হয়।
কৃষ্ণনগর এ দশমীর দিন পূজা শেষ হওয়ার পর থাকে বিশেষ শোভাযাত্রা সহকারে মায়ের সুসজ্জিত ঘট নিরঞ্জন, পুরো বিশ্বে এই অনন্য ঘট বিসর্জন দেখতে প্রতি বছর দেশ বিদেশ থেকে প্রচুর দর্শক এর সমাগম হয় । এরপর রাতে থাকে সুসজ্জিত শোভাযাত্রা ও শতাধিক ঢাক বাদ্য সহকারে বেহারার কাধে করে মায়ের নিরঞ্জন । সে ঘটনা চোখে না দেখলে তার সৌন্দর্য বর্ণনা করা প্রায় অসম্ভব ,পুরো বিশ্বে শুধু মাত্র কৃষ্ণনগর এই এইভাবে বিসর্জন হয় ।
প্রাচীন কাল থেকে এখনো পর্যন্ত কৃষ্ণনগর বহন করে চলেছে এই ঐতিহ্য ।
বর্তমানে কৃষ্ণনগর e প্রায় ২৫০ এর বেশী পূজো হয় ।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল এ বছরের প্রতি বারোয়ারী ও ক্লাব এর পুজোর ভিডিও আপলোড করা হবে। দয়া করে সাবস্ক্রাইব করে আমাদের চ্যানেল এর সাথে জুড়ে থাকুন।
আরো দেখুন
বুড়িমা বিসর্জনের স্পেশাল ভিডিও
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন